নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদের বাকি আছে কয়েকদিন। মানুষ ছুটছে নিউমার্কেটে। উপচে পড়া ভিড়। নিউমার্কেটে লোক সমাগমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কারোর আগ্রহ নেই। মাস্ক ছাড়াই মানুষ চলাফেরা করছে। দোকানিরাও কিছু বলছেন না। স্বাস্থ্যবিধির চেয়ে বিক্রির দিকে দৃষ্টি বেশি দোকানির। আর ক্রেতারা দরদাম নিয়ে ব্যস্ত। শনিবার (১৮ জুলাই) নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে এসব দৃশ্যই দেখা যায়।

দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে আজ। এর আগে ১ লাখ ছাড়াতে সময় লেগেছিল ১০৩ দিন আর পরের এক লাখের কাছাকাছি যেতে সময় লেগেছে মাত্র ৩১ দিন। প্রতিদিনের গড় তথ্য বলছে পরবর্তী ১ লাখ ৩২ দিনে ছাড়িয়ে যাবে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনের স্বাস্থ্য বুলেটিনে অধিদফতরের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরামর্শ হিসেবে বলা হয় – স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন, করোনাকে প্রতিরোধ করবেন। সঠিকভাবে মাস্ক পরবেন, বারবার সাবান-পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোবেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন এবং জনসমাবেশ এড়িয়ে চলবেন। কিন্তু রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় এই পরামর্শের তোয়াক্কা করছেন না বেশির ভাগ মানুষ।

শনিবার বিকালে নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফুটপাতে এবং মার্কেটে অগনিত লোক সমাগম। একজন আরেকজনকে ঘেঁষেই হেঁটে যাচ্ছে পথের ওপর দিয়ে। মুখে মাস্ক থাকলেও তা নিচে নামানো এবং এই অবস্থাতেই ক্রেতা বিক্রেতা দরদাম করে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধির বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করতে দেখা যায়নি এসময়। মার্কেটের দোকানগুলোতে বিক্রেতারা মাস্ক পড়ে বসে থাকলেও অনেক দোকানেই নেই হ্যান্ড সেনিটাইজারের ব্যবস্থা। যে যেভাবে পারছেন ক্রেতা ডাকছেন আর পণ্য বিক্রি করছেন। ফুটপাথের হকারদের অবস্থা আরও করুণ। সেখানে সামাজিক দূরত্ব নেই এবং কোনও হকারের মুখে মাস্ক পর্যন্ত নেই।

চাঁদনি চক মার্কেটের সামনে খোলা জায়গায় কথা হয় কয়েকজন হকারের সঙ্গে। তাদের মতে – লোক আছে অনেক কিন্তু ক্রেতা নেই। বিক্রির অবস্থা খুব খারাপ। হকার সেলিম জানান, ‘জুতার বিক্রি নেই। ঈদের কোন আমেজ মার্কেটে নাই। মার্কেটে প্রচুর লোক কিন্তু কাস্টমার নাই। স্বাস্থ্যবিধির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসা নাই আয় নাই, এগুলা চিন্তা কইরা লাভ আছে?’