নিজস্ব প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও হাওরের মানুষরা পড়েছেন বিপাকে। একদিকে বাড়িঘরে বন্যার পানি অন্যদিকে বিশুদ্ধ পানির সংকট বাড়ছে। গত শুক্রবার থেকে টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে।

এদিকে হাওরের সবদিকে পানি ও নলকূপগুলো বন্যায় ডুবে যাওয়ায় সুনামগঞ্জের বেশ কয়েকটি উপজেলায় খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করে যাচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।

সরেজমিনে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা ও তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে অতিরিক্ত ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে তা সুনামগঞ্জের নদ-নদীতে প্রবেশ করে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত করে। প্রতি বছর হাওরে এই সময় পানি থাকার কথা থাকলেও এবার পানির মাত্রা বেশি। এছাড়াও সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যা হওয়ায় হাওর এলাকার মানুষের জীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে।

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের এলাকাগুলো থেকে পানি দ্রুত নামলেও হাওরের পানি নামছে ধীর গতিতে। যার কারণে হাওর এলাকার মানুষের মাঝে খাবার সংকটের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। এছাড়াও তাহিরপুর উপজেলার মল্লিকপুর, রামজীবনপুর, মারালা গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এখনও পানিবন্দি রয়েছে।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কাশেম বলেন, বন্যা মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত আমরা সুনামগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় চার লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রদান করেছি। এছাড়া ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে নলকূপ বসিয়েছি। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর যেন টিউবওয়েল পরিষ্কার করা যায় সেজন্য আমরা প্রতিটি উপজেলায় ৬০০ কেজি ব্লিচিং পাউডার দিয়েছি। তবে এবার আমরা বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে সুনামগঞ্জ শহরে মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে পানি দেয়ার ব্যবস্থা করেছি।