নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনা মহানগরীর খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী গ্রামে প্রতিপক্ষের গুলি ও পাল্টা হামলায় চারজন নিহত হওয়ার ঘটনার দুদিন পরও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। গ্রামজুড়ে মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু এখনো ঘটনার মূল অভিযুক্ত শেখ জাকারিয়া ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

এদিকে ঘটনার দুদিন পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কেউ মামলা দায়ের করেনি। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শেখ জাকারিয়ার ছোট ভাই ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা শেখ জাফরিন হাসানকে শনিবার গোয়েন্দা পুলিশ যশোর থেকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া মূল অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠজন জাহাঙ্গীরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলেছে পুলিশ।

অপরদিকে, ঘটনার মূল হোতারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন নেতারা। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলেছেন, এ ঘটনা দলীয় কোনো বিষয় না, ব্যক্তিকেন্দ্রিক, যার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের, দলের নয়। দল কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায়ভার বহন করবে না।

ঘটনার নেপথ্যে
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার খানজাহান আলী থানা পুলিশকে অস্ত্রসহ মুজিবর নামের এক ব্যক্তিকে ধরিয়ে দেয় জাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের নেতা জাকারিয়া ও তার ভাই জাফরিন। মুজিবরকে গ্রেফতারের বিষয়ে এলাকাবাসী জাকারিয়াকে জিজ্ঞাসা করতে যায়। ওই বাড়ির সামনে যাওয়ার পর কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে জাকারিয়া ও জাফরিন স্থানীয়দের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

তবে কেউ কেউ বলছেন, মশিয়ালী শামসুল উলুম আলিয়া মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে খানজাহান আলী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক মো. জাকারিয়া সভাপতি পদে পরাজিত হন। এ ঘটনার জের ধরে স্থানীয়দের সঙ্গে তার বিরোধের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পর জাকারিয়া ও তার তিন ভাই জাফরিন, মিল্টন ও কবির আত্মগোপন করে।

অন্যতম হোতা জাফরিন গ্রেফতার
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির জানান, গতকাল বিকাল সোয়া ৫টার দিকে কেএমপির গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার দাঁতপুর গ্রাম থেকে মশিয়ালী গ্রামের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মূলহোতা সন্ত্রাসী জাকারিয়ার অন্যতম সহযোগী ও তার আপন ছোটভাই শেখ জাফরিনকে গ্রেফতার করেছে। বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) সোনালী সেন জানান, অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।