বিগণবিডি ডেস্ক: করোনাভাইরাস পরীক্ষার জাল সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগে এক ডজনেরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) রাজধানীর রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালালে বিষয়টি সামনে আসে। ‘আরব নিউজে’ এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

খবরে আরো বলা হয়, কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকার যেসব বেসরকারি হাসপাতাল বেছে নিয়েছিলো রিজেন্ট হাসপাতাল তার একটি।

শুক্রবার পুলিশের এলিট অ্যান্টি-ক্রাইম ইউনিটের মুখপাত্র লে. কর্ণেল আশিক বিল্লাহ আরব নিউজকে জানান, হাসপাতালটি দশ হাজারেরও বেশি নমুনা সংগ্রহ করে মাত্র চার হাজার দুইশ নমুনা পরীক্ষা করেছে। তবে সবগুলো নমুনার জন্যই রিপোর্ট তৈরি করেছে। হাসপাতালটি পাশের ভবনের একটি কম্পিউটার ল্যাব থেকে করোনা পরীক্ষার এসব জাল সার্টিফিকেট তৈরি করেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতালটির রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ ২০১৪ সালেই শেষ হয়ে গেছে। তারা অবৈধভাবে হাসপাতাল চালিয়ে আসছিলো। প্রতিটি করোনা রিপোর্টের জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা এবং চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ বিল করতো হাসপাতালটি।’

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাসপাতালটির সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নয় জনকে আটক করা গেলেও হাসপাতালটির মালিক এবং পরিচালক মোহাম্মদ সাহেদকে আটক করা যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা আরব নিউজকে বলেন, দেশে যখন প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় তখন সরকার করোনা চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে এগিয়ে আসতে বলে। কিন্তু প্রথম দিকে খুব বেশি সাড়া না পেলেও রিজেন্ট হাসপাতাল কর্তৃডক্ষ আমাদের সাথে যোগাযোগ করে এবং তাদের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানায়, রিজেন্ট হাসপাতালের দুর্নীতি তদন্ত করে দেখা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাহেদের সকল ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করেছে এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষ থেকে সাহেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

একই ধরণের মামলায় ২৪ জুন বেসরকারি জেকেজি হাসপাতালের ৫ জন স্টাফকে পুলিশ আটক করেছিলো বলেও আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে।