বিগণবিডি ডেস্ক: বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দশ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকেই নিজেদের বাড়ি ছেড়ে গবাদি পশু ও অন্যান্য জিনিসিপত্র নিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছেন। সরকারি কর্মকর্তা এবং স্বেচ্ছাসেবীদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।

মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিশ জেলার চব্বিশটিরও বেশি পয়েন্টে পানির স্তর বেড়েছে। গত চব্বিশ ঘন্টায় উত্তর-পূর্ব এবং মধ্যাঞ্চলের বেশ কিছু নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তবে সবচেয়ে খারাপ বিষয় হচ্ছে এ বছরের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হবে। তিনি আরো বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত এবং ভারত থেকে প্রবাহিত পানির কারণে বন্যা হচ্ছে। গত মাসের শেষের দিকে বন্যা শুরু হয় এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে শুরু করে। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রায় ২৩০টি নদী প্রবাহিত হয়েছে এর মধ্যে অভিন্ন নদী রয়েছে ৫৩টি।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্থানীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান সৈকত বলেন, কুড়িগ্রামে বন্যার প্রভাব পড়েছে বেশি। এখানকার হাজার হাজার গ্রামবাসী তাদের গবাদি পশু এবং অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে উচু জায়গায় চলে গেছেন। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন বন্যাকবলিত গ্রামবাসীদের রান্না করা এবং শুকনো খাবার উভয়ই বিতরণ করে আসছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কুড়িগ্রামের প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার লোকের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে বিদ্যানন্দ। পাশাপাশি সরকারের ত্রাণ অফিসও খাবার, নগদ টাকা ও গবাদি পশুর খাবার সরবরাহ করছে। গত দুই দিনে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে, অনেক গ্রাম তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার লোককে অন্যত্র আশ্রয় নিতে দেখেছি।

আন্তর্জাতিক সংস্থা রেডক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বন্যায় এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। হাজারখানেক মানুষ তাদের বাড়ি ছেড়ে উচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।